Engineer Simple https://www.engineersimple.com/2022/07/International%20politics%20and%20Machiavellianism.html

আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং ম্যাকিয়াভেলিবাদ


আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং ম্যাকিয়াভেলিবাদ





"সিংহের ন্যায় শক্তিশালী,শৃগালের ন্যায় ধূর্ত।নিশ্চিহ্ন করে দাও শত্রুর শেষ চিহ্ন। নির্ভাবনায় শাসনের তাগিদে নিজ পরিবারের সদস্যদের নিশ্চিহ্ন করতেও দ্বিধা করো না।"


আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং ম্যাকিয়াভেলিবাদ




~নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি





পাঁচশত বছর পূর্বে এ ক্ষণজন্মার আবির্ভাব হয়েছিল ইতালির ফ্লোরেন্সে।তিনি শুধুমাত্র একজন দার্শনিক এবং রাষ্ট্রচিন্তক ছিলেন না,বরং তার চিন্তা থেকেই জন্ম নিয়েছে ম্যাকিয়াভেলিবাদ। মধ্যযুগ থেকে আধুনিক কালের সূচনাও হয়েছিল তার চিন্তা-চেতনার মাধ্যমে। রাজতন্ত্রের বদলে আধুনিক জাতিরাষ্ট্র ও জাতীয়তাবাদের কথা সর্বপ্রথম বলেন তিনি।তাই তাকে শনাক্ত করা হয় আধুনিক রাষ্ট্রদর্শনের জনক হিসেবে।





ম্যাকিয়াভেলির লিখিত বিখ্যাত গ্রন্থ 'দ্য প্রিন্স'- এ তিনি লিখেছেন,





"শাসনক্ষমতার বৈধতা কোনো নৈতিকতার মাপকাঠিতে আবদ্ধ নয়; কর্তৃত্ব আর ক্ষমতাই এখানে মূল বিষয়। যার ক্ষমতা আছে সে-ই শাসন করবে, নৈতিকতা কাউকে ক্ষমতায় বসায় না। ক্ষমতা অর্জন আর ক্ষমতা রক্ষা করাই রাজনীতির মূলনীতি। ক্ষমতার উপযুক্ত ব্যবহার দিয়েই জনগণের আনুগত্য অর্জন করতে হয়। রাজনীতি মানেই হলো ক্ষমতা গ্রহণ আর প্রয়োগের।"




অর্থাৎ, রাষ্ট্র এবং ক্ষমতাকে সংহত করতে যদি মিথ্যা,বিশ্বাসঘাতকতা ও নিষ্ঠুরতার দরকার হয় তবে সেটিই উত্তম।ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য রাজাকে প্রায়ই সততা, করুণা ও ধর্মীয় আদেশের বিরুদ্ধে কাজ করতে হয়, তবে তাকে অবশ্যই সর্তকতার সহিত ভান বা অভিনয় করতে হবে সহানুভূতি,সততার এবং ধার্মিকের। ধর্মগুলো এখানে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক হাতিয়ার। কারণ তারা মানুষের মনকে আরো বেশি প্রভাবিত করতে পারে। বিচক্ষণ শাসক ও আইনপ্রণেতারা বারবার দেবতাদের কথা বলেন, পবিত্র ইচ্ছার কথা বলেন কারণ ধর্ম সহায়তা করে প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে এবং আধিপত্য বিস্তারে।









'দ্য প্রিন্সে' বর্ণিত এসকল নীতি পঞ্চদশ শতক থেকে আজ অবধি পৃথিবীর সকল ক্ষমতাধর,শোষক,নিপীড়ক রাষ্ট্র এবং তার কর্ণধারেরা অনুশীলন করে চলেছে।ম্যাকিয়াভেলিবাদকে যদি আমরা চলমান বিশ্ব রাজনীতির সাথে একত্রিত করি তবে তার হাজারো প্রমাণ আমাদের মানসপটে ভেসে উঠবে। পশ্চিমা বিশ্ব এই তত্ত্বকে করছে তার নিত্য সঙ্গী। তাদের রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতিকে দিয়েছে বিশেষ আকার-আকৃতি।





চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট,চীনের আগ্রাসন,সিরিয়া-ইরাক,মধ্যপ্রাচ্য সংকট,মিয়ানমারের জাতিগত নিধন-নিপীড়ন। গণতন্ত্রের ফুলঝুরি ছিটানো যুক্তরাষ্ট্রের সকলকিছুর উর্ধ্বে নিজ স্বার্থ,অস্ত্র ব্যবসা,মহামারীকালীন ভ্যাকসিন কূটনৈতিকতা।মোড়ল রাষ্ট্রগুলি দুনিয়াজুড়ে আধিপত্য,নয়া-উপনিবেশ কায়েমে ব্যস্ত,গ্রাস করছে অপর রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব,আগ্রাসন,সন্ত্রাস, প্রতারণার মাধ্যমে হাসিল করছে নিজ স্বার্থ।ক্ষমতার মসনদে আসীন থাকার লোভে ধর্মকে ব্যবহার করছে নিত্য-নিমিত্ত।সাবেক কমিউনিস্ট রাষ্ট্র সোভিয়েত রাশিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুরু করেছেন ধর্মযুদ্ধ।সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে আজ সমগ্র ধরণী পরাস্ত।





নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি আধুনিক রাজনীতিতে কূট-কৌশল, শক্তি-সাহস-নির্মমতা দিয়ে বিজয়ী হওয়ার যে মন্ত্র দিয়েছিলেন,পাঁচশ’ বছর পরে তারই প্রত্যাবর্তন হয়েছে বিশ্বরাজনীতিতে স্বৈর,অগণতান্ত্রিক,ক্ষমতামত্ত,লোভী, নিষ্ঠুর শাসকদের মাধ্যমে।


Share with others

0 Comments

Publish comments by following these Rules.??

অর্ডিনারি আইটি কী?